যে সব মিডিয়া গত ৪ সেপ্টেম্বরের ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে চট্টগ্রামের বড় দুটি সমস্যা সমাধানের দাবীতে নাগরিক ফোরামের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন নিয়ে কোন রিপোর্ট করেননি তাঁদের উদ্দেশ্যে কিছু বলার নেই ।
যে সব মিডিয়া গত ৪ সেপ্টেম্বরের ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে চট্টগ্রামের বড় দুটি সমস্যা সমাধানের দাবীতে নাগরিক ফোরামের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন নিয়ে কোন রিপোর্ট করেননি তাঁদের উদ্দেশ্যে কিছু বলার নেই । যাঁরা করেছেন তাঁরা আপামর চট্টগ্রামবাসীর অন্তর থেকে দোয়া পাবেন নি:সন্দেহে, কারণ এগুলো মানুষের জীবন-মরণ সমস্যা । যাঁরা করেননি তাঁদের কারণ হতে পারে: ১. তাঁরা হয়তো সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে জানতে পারেননি, তাহলে বলার কিছু নেই । অথবা ২. তাঁরা চট্রগ্রামকে ভালোবাসেন না অথবা ৩.তাঁরা সংকীর্ণ আন্চলিকতাবাদী, কিন্তু তাঁদের মনে রাখতে হবে যে, জাতীয় অর্থনীতির মূল যোগানদার ও প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রামকে ভালো না বাসা মানে তাঁরা দেশকেও ভালোবাসেন না। অথবা, ৪. তাঁরা মনে করেন আমরা এগুলো নিয়ে সরকার বিরোধীতা করছি, অথবা, ৫. কিছু লোক মনে করেন নিউজ করার জন্য অমরা কোন টাকা পয়সা খরচ করিনি. অথবা ৬. রিপোর্টার বা মালিকদের মধ্যে কেউ ঈর্ষান্বিত বা আমাদেরকে তাঁদের সামাজিক বা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবেন, অথবা, ৭. তাঁরা হয়তো মনে করেন এসব নিয়ে তাঁরাইতো লিখছেন বা বলছেন, আমদের হাইলাইট করে লাভ কি? অথবা ৮. চট্টগ্রাম ধীরে ধীরে পানিতে ডুবে যাক, তাঁরা বরং এতে আনন্দিত ইত্যাদি।এসব অবশ্য স্বাভাবিক, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বিরোধিতাকারী সংবাদ পত্রও তখন কম ছিল না, তবুও দেশ স্বাধীন হয়েছিল। এসব মনোভাবাপন্ন সংবাদ কর্মী বা মিডিয়া আমরা ৮০ দশকের শেষের ও নব্বই দশকের প্রথম দিকের সেই চট্টগ্রাম উন্নয়নের তীব্র আন্দোলনের সময়ও দেখেছিলাম। কোন কোন পত্রিকা সেই সময় সামরিক স্বৈরাচার জেনারেল এরশাদকে খুশী করার জন্য ১৯৮৯ সালের ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বরের ৪৮ ঘন্টার হরতালের কোন কভারেজ দেননি। এরপরও আমরা তৎকালীন আজাদী, পূর্বকোণ, নয়াবংলা, সংবাদ, ইনকিলাব, ইত্তেফাক, অবজারভার, নিউ নেশন, বাংলার বাণী, জনতা, জনকন্ঠ, খবর ইত্যাদির অনেক সহযোগিতা পেয়েছিলাম। আমাকে নিয়ে শাহরিয়ার খালেদের সম্পাদিত " অদম্য এক মনোয়ার হোসেন" নামক বইটিতে ঐ সময়ের অনেক পেপার কাটিং সংযুক্ত করা আছে । যাই হোক,অনেকেই এখন বলেন, আমাদের সেই সফল আন্দোলন চট্রগ্রামকে ১০০ বছর এগিয়ে দিয়েছে। এসব আন্দোলন কারণে জেল জুলুম সহ্য করেছিলাম। কিন্তু চট্টগ্রাম পেয়েছে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, এরশাদের শাসনের শেষের দিকে কর্ণফুলী সেতু ( যেটি পরে পুন:নির্মিত হয়ে আওয়ামী লীগ আমলে শাহ আমানত সেতু নামকরণ হয়েছে),
কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন লাইন, নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে বিশ্বব্যাংকের পরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্প, সংশোধিত মহানগরীর মাষ্টার প্ল্যান যার আওতায় রয়েছে চলমান জলাবদ্ধতা মেগাপ্রকল্প ও সুয়েরেজ প্রকল্প, জানজটের নিরসনের জন্য বাস টার্মিনাল, নতুন সড়ক নির্মাণ ও সম্ম্রসারণ, জেনারেল হাসপাতাল ২৫০ বেডসহ সহ আধুনিকায়ন, পৃথক শিক্ষা বোর্ড, পৃথক টিভি কেন্দ্র, উপকূলীয় এলাকা রক্ষা বাঁধ,
ইত্যাদি। এসব কিছুর বিনিময়ে সুযোগ থাকা সত্তেও গ্রহণ করিনি কোন বিশেষ সরকারী সুবিধা বা ক্ষমতার পদবী।
এবারও আমরা চট্রগ্রামের জলাবদ্ধতার সমস্যার সমাধান এবং কালুরঘাট নতুন সেতুর দাবাীও আদায় করব ইনশাআল্লাহ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আশা করি এতে শীঘ্রই পদক্ষেপ নেবেন । মনে রাখবেন, চট্টগ্রামবাসীর মনে সংকীর্ণতা বা আন্চলিকতা নেই, জাতীয় অর্থনীতির মূল যোগানদার হয়েও আমাদের মধ্যে কোন ধরনের অহংকার নেই । দেশ আমাদের সবার । দেশের অগণিত মানুষ সব জেলা থেকে চট্টগ্রাম আসেন তাদের জীবন জীবিকার জন্য । আমরা যখন বিয়ের অনুষ্ঠান করি কিংবা কোন সামাজিক অনুষ্ঠান বা মেজবান করি, আমরা অন্য জেলার সবাইকে
দাওয়াত দিই, আমরা একা মেজবান খাই না। অন্য জেলার মানুষের সাথে পারিবারিক সম্পর্ক করি। কারণ চট্টগ্রামের মানুষের মন অনেক বড় । তবে ভাবুন, চট্টগ্রাম বাঁচলেই তো দেশ বাঁচবে । চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানে দেশের উন্নয়ন । এখানে সোচ্চার হওয়াটা আন্চলিকতা নয়, বরং প্রকৃত দেশপ্রেমিকদের কাজ এটা। যারা জনগণের কষ্ট দেখে কিছু করতে পারেন না তাদের রাজনীতিতে আসা উচিত নয়।তবে মনটাকে একটু বড় করুন, অন্তত: যারা কিছু করতে চেষ্টা করছে তাদের প্রতি সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দিন।