নতুন সেতু নির্মানে ব্যর্থতায় রেলমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই, সেতু নির্মানের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়া না হলে বৃহত্তর আন্দোলন করবে চট্টগ্রামবাসী।
প্রেস রিলিজ:
চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের সমাবেশ:
নতুন সেতু নির্মানে ব্যর্থতায় রেলমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই, সেতু নির্মানের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়া না হলে বৃহত্তর আন্দোলন করবে চট্টগ্রামবাসী।
-ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন।
গতকাল কর্ণফুলী কালুরঘাট নতুন সেতু অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবীতে এবং পুরাতন সেতু সংস্কারের নামে ফেরী পারাপারে চরম জনদূর্ভোগের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে ফোরামের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উন্নয়নের আন্দোলনের নেতা ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন বলেছেন, বার বার ঘোষণা দেওয়ার স্বত্বেও কেন কালুরঘাট নতুন সেতু নির্মাণ কাজ আজ পর্যন্ত শুরু হলো না তা এখন রহস্যাবৃত। যারা এই সেতুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন তারা দেশ ও জাতীর শত্রু। কারণ এই সেতুটি নির্মিত হলে বোয়ালখালী, মোহরা, হাটহাজারী, রাংগুনিয়া ও পটিয়াসহ পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের অর্থনৈতিক কর্মতৎপরতা বেড়ে যাবে এবং এতে জাতীয় অর্থনীতির লাভ হবে। বাংলাদেশের আর কোন অঞ্চলের মানুষের সাথে এধরনের বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়নি অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০০৮ সালে বোয়ালখালীতে এক নির্বাচনীয় জনসভায় নতুন সেতুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং ২০১৪ সালে চীন সফরকালে এই সেতুর জন্য সহযোগীতা চেয়েছিলেন। এই পর্যন্ত রেলমন্ত্রী, সদ্য প্রয়াত এমপি মুসলিম উদ্দীন ঘোষণা দিয়েছিলেন এ বছরের (২০২৩) মার্চ থেকে নতুন সেতুর কাজ দৃশ্যমান হবে কিন্তু এখন কি হচ্ছে? অনিশ্চিয়তার মধ্যে ঝুলছে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নতুন কালুরঘাট সেতুর স্বপ্ন।
কালুরঘাটের পশ্চিম পাড়ে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন প্রশ্ন করেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর জন্য আমরা চট্টগ্রাম ৮ আসনের জনগনের ভোট কোন মুখে চাইবো? বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর চট্টগ্রামবাসীর জন্য এবং এইটি হবে অত্র এলাকায় একটি সিরিয়াস ইস্যু। দেরি হওয়ার আগে এখনই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করে বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়ার জন্য তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, বর্তমানে পুরাতন সেতু সংস্কারের জন্য ফেরী চালুকরার পর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বায়িত্ব জ্ঞানহীনতার কারণে জনগনের চরম দূর্ভোগ চলছে। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এর একটি ভিডিও ফোটেজ অতিসত্বর পাঠিয়ে দিবো তাঁর সদয় অবগতির জন্য। ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন এখনকার অনিশ্চিয়তার জন্য রেলমন্ত্রী, রেলওয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ দ্বায়ী কর্তাদের অপসারণ দাবী করেন। তিনি আগামী ২মাসের মধ্যে এব্যপারে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না পেলে চট্টগ্রামবাসী প্রয়োজনে হরতাল বা দলমত নির্বিশেষে গণ আমরণ অনশন করতে বাধ্য হবে। কালুরঘাট ইস্যু কোন রাজনৈতিক ইস্যু না। ৮০ দশক থেকে চট্টগ্রাম উন্নয়নের জন্য সংগ্রাম করেছি এবং জনগনের এই দুর্দশায় চুপচাপ বসে থাকাটা দেশপ্রেমের বিরুদ্ধে যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নের দ্বায়িত্ব নিয়েছেন এবং তার আন্তরিকতা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই তবে তিনি এই বিষয়ে জরুরী নির্দেশ দিবেন আশা রাখি।
সংগঠনের মহাসচিব মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আবদুল মোমেন, চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খালেদ, সিইউজের অর্থ সম্পাদক মোজাহেদুল ইসলাম, বাংলা টিভির বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান চৌধুরী লোকমান, গোলাফুর রহমান, এডভোকেট মাসুদুল আলম বাবলু, লেখক সংগঠক কামরুল ইসলাম, সাংবাদিক মির্জা ইমতিয়াজ শাওন, সাংগঠনিক সম্পাদক এম মনসুর আলম, গাওছিয়া কমিটির পক্ষে জাহাঙ্গীর আলম,মাসুদ খান,গোলাম রসুল মান্নান আলহাজ্ব শেখ সালাউদ্দিন,, নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ নূর, মেহেরুন্নেসা নিপা, রকি, মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন, শ্রমিক নেতা মোহাম্মদ হোসেন, রাশেদুল ইসলাম, মেহেরুন নিপা, মোহরা নাগরিক ফোরামের মহিলা সম্পাদিকা মিশু আক্তার, কে এম শহিদুল্লাহ, তসলিম খাঁ, মোহাম্মদ ফোরকান, মো. এমরান, , আলমগীর রানা প্রমুখ । কোরআন তেলাওয়াত করেন ছাত্রলীগ নেতা মোঃ সিফাতুল হক।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, "আমরা আপামর চট্টগ্রামবাসী সরকারের কাছ সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার চাই। কালুরঘাটে নতুন সেতুর কাজ শুরু হবে। এ প্রকল্প একনেকে এবং মন্ত্রিসভা থেকে জরুরিভাবে অনুমোদন নিতে হবে। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমাদের রয়েছে তার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস। যদি নতুন সেতু নির্মাণের দ্রুত ঘোষণা সরকারের পক্ষ হতে না এলে আমরা আপামর চট্টগ্রামবাসীকে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবো।"